উজানের ঢলে সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি, ধান কাটায় শঙ্কায় কৃষকরা - ভোরের সময় অনলাইন উজানের ঢলে সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি, ধান কাটায় শঙ্কায় কৃষকরা

বেকিং নিউজ

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds


উজানের ঢলে সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি, ধান কাটায় শঙ্কায় কৃষকরা



দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় মাঠের বোরো ধান দ্রুত ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। এর আগে সকাল থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিজয়পুর পয়েন্ট দিয়ে উজানের পানি সোমেশ্বরী নদীতে প্রবেশ করতে শুরু করলে নদীতে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম কাঠের সেতুটি ভেঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। এতে তেরী বাজার ঘাট থেকে শিবগঞ্জ ঘাট এবং বিরিশিরি ঘাট থেকে দক্ষিণ ভবানীপুর ঘাট এলাকায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের অর্থায়নে নির্মিত কাঠের সেতুটি পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেঙে পড়ে। ফলে নদী পারাপারে দুর্ভোগ বেড়েছে। সেতু না থাকায় নৌকায় পারাপারের সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীর পানি আরও বাড়লে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনো অনেক জমির বোরো ধান কাটা হয়নি, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা।

স্থানীয় রিকশাচালক রমিজ উদ্দীন বলেন, “আমি মালামাল নিয়ে ওপারে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন পার হওয়াই ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি থাকলে সহজে পার হওয়া যেত। এখন শিক্ষার্থীসহ সবাই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ৫ দশমিক ১১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৫৩ মিটার নিচে। এছাড়া কংশ নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৯৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে রাতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস জানান, দুর্গাপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফসল নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন তারা।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান পূর্বকন্ঠকে বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে নদীর পানি বাড়ছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এখনো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ